"গরমে ঠান্ডা থাকার অসাধারন উপায় ও পরামর্শ"
গরমে ঠান্ডা থাকার জন্য কার্যকর পরামর্শ ও প্রাকৃতিক সহায়তাঃ
Heatwaves: How to stay cool
গরমের উষ্ণতার সময়ে আমরা সবাই ঠান্ডা থাকার উপায় খুঁজে থাকি। অস্থির গরমের মধ্যে ঠান্ডা থাকতে সাহায্য করার জন্য এই ব্লগপোস্টটি আমরা আপনার সাথে শেয়ার করছি। এখানে আমরা আপনাকে কার্যকর পরামর্শ প্রদান করবো, যা আপনাকে গরমে ঠান্ডা থাকতে সহায়তা করবে এবং আপনাকে প্রাকৃতিক উপায়ে শিতলতা দেবে।
১.বাড়ির সবচেয়ে ঠান্ডা ও শিতলতম রুমটিতে অবস্থান করুন, বিশেষ করে দিনের বেলায়।
২. অতিরিক্ত গরমের সময় বাড়ির বাইরে যাওয়া থেকে বিরত থাকুন। একান্ত জরুরী কাজে যদি বাইরে যেতেই হয় তবে অবশ্যই সঙ্গে ছাতা নিয়ে বের হউন।
৩. যতোটুকু সম্ভব কঠোর শারীরিক কার্যকলাপ এড়িয়ে চলুন। আপনি যদি কঠোর শারীরিক কার্যকলাপ করতে চান তবে দিনের সবচেয়ে শীতলতম সময়ে এটি করুন, যা সাধারণত সকাল ৬টা থেকে ৮টার এর মধ্যে।
৪.অতিরিক্ত তাপদাহের সময় গোসল করে শরীরকে ঠান্ডা ও হাইড্রেটেড রাখুন। আপনি ঠান্ডা রাখার জন্য কোল্ড প্যাক এবং মোড়ানো ভেজা তোয়ালে, স্পঞ্জিং এবং ফুট বাথ ব্যবহার করতে পারেন। প্রাকৃতিক উপকরণের হালকা, ঢিলেঢালা পোশাক পরুন।
যদি বাইরে যান, একটি চওড়া কালো কাঁচযুক্ত সানগ্লাস পরুন। তাপ সঞ্চয় এড়াতে হালকা বিছানার চাদর ব্যবহার করুন।
নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমানে পানি পান করুন, তবে অ্যালকোহল এবং অত্যধিক ক্যাফিন এবং চিনি এড়িয়ে চলুন। হাল্কা খাবার খান এবং বেশি করে খান। উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।
৫.আপনি যদি তাপদাহের সময় মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, উদ্বিগ্ন বা তীব্র তৃষ্ণা এবং মাথাব্যথা অনুভব করেন, তবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ঠান্ডা জায়গায় চলে যান এবং আপনার শরীরকে রিহাইড্রেট করতে কিছু জল বা ফলের রস পান করুন।
৬. আয়ুর্বেদ বলে, গরমকালে মানুষের পিত্ত তীব্র হয়ে ওঠে। তাই শরীরে শীতলভাব বজায় রাখতে চাইলে সবার আগে পিত্তবর্ধক খাবারগুলিকে বাদ দিতে হবে। শীতের দিনের সবজি গাজর, ফুলকপি, বিট, বাঁধাকপি বাদ দিন গ্রীষ্মের খাদ্যতালিকা থেকে। বদলে রাখুন শসা, ঝিঙা, পটল, কুমড়া, এঁচড়ের মতো সবজি ও তরমুজ, ফুটি, বেল, আপেল ইত্যাদি ফল। কিছুদিন পরে আম উঠবে, তখন আমও খেতে পারেন নিশ্চিন্তে। প্রতিটি ফল ও সবজিতেই পানির পরিমাণ বেশি, তা শরীর শীতল রাখবে। সেই সঙ্গে দইয়ের ঘোল, ডাবের পানি ইত্যাদি খেতেও ভুলবেন না। চিজ, তেল-মশলা, ভাজাভুজি, বেশি মরিচ, কমলালেবু ইত্যাদি যতটা কম খাবেন, ততই ভালো।
৭. খাওয়ার মাঝে খুব বেশিক্ষণের গ্যাপ দেবেন না। খালি পেটে অ্যাসিড, পিত্ত সবেরই বাড়াবাড়ি ঘটে। দিনের মাঝখানে (অর্থাৎ লাঞ্চ ব্রেকে) সবচেয়ে ভারী খাবার খান, রাতের দিকে হালকা খেলেও চলবে। বেশি করে স্যালাড আর ফলমূল খাওয়া উচিত এ সময়ে।
৮. মাথায় আর গায়ে খাঁটি নারকেল তেল মেখে গোসল করুন, আপনার ত্বকে হিট র্যাশ বেরনোর মাত্রা নিশ্চিতভাবেই কমবে। নারকেল তেল সানস্ক্রিন হিসেবেও কাজ করে, তাই নিরক্ষীয় অঞ্চলে তার বহুল ব্যবহার দেখা যায়।
৯. গরমের দিনে এমনিতেই চা-কফি খেতে ইচ্ছে করে না। ঘরের তাপমাত্রায় শরবত খান। বরফ-ঠান্ডা পানীয় থেকেও দূরে থাকুন, তাতেও শরীর গরম হয়।
১০. দুঃসহ গরমে ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে বেরিয়ে যায় প্রচুর পরিমাণ পানি। সেই পানি পূরণ করতে আপনাকে বাড়তি পানি পান করতে হবে। শরীরের কোষগুলো সজীব রাখতে হলে চাই পানি।
১১. বিভিন্ন মাংস, ডিম ও চর্বিজাতীয় খাবারের কথা ভুলে যান। তরল খাবার, ডাবের পানি, তরমুজ খান বেশি করে।
১২. এ গরমে পোশাক পরুন হালকা রংয়ের। গাঢ় রংয়ের পোশাক রোদ শোষণ করে বলে গরম অনুভূত হয় বেশি। সবচেয়ে ভালো হয় সাদা রংয়ের পোশাক হলে। গরমে সিনথেটিক পোশাক পরবেন না। সবসময় সুতি ও ঢিলা পোশাক পরার চেষ্টা করুন।
লিখেছেনঃ রবিউল হোসেন ফরহাদ।
ফেসবুকঃ
https://web.facebook.com/abir9610


No comments